পরকাল বিশ্বাসে বিশ্বের শীর্ষে বাংলাদেশ, তলানিতে চীন
Published: Saturday, 11 April 2026

পরকাল বিশ্বাসে বিশ্বের শীর্ষে বাংলাদেশ, তলানিতে চীন
বিশ্বখ্যাত গবেষণা সংস্থা 'ওয়ার্ল্ড ভ্যালুস সার্ভে'-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম বা পরকালের বিশ্বাসে সারা বিশ্বের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এই জরিপটি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের মানুষের সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসের গভীরতা পরিমাপের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত। তালিকায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের ৯৮.৮ শতাংশ মানুষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে এই নশ্বর জীবনের পরেও অন্য একটি জগৎ রয়েছে।
বাংলাদেশের এই শীর্ষস্থানের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে এদেশের মানুষের সুদৃঢ় ধর্মীয় মূল্যবোধ। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় পরকাল বা আখেরাতের ওপর বিশ্বাস এখানকার ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুধু মুসলিম নয়, এদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যেও পুনর্জন্ম বা স্বর্গ-নরকের ধারণা অত্যন্ত প্রবল। পারিবারিক ও সামাজিকভাবে পরকালকে একটি ধ্রুব সত্য হিসেবে দেখা হয়, যার প্রতিফলন ঘটেছে এই পরিসংখ্যানে।
তালিকায় মুসলিম দেশগুলোর অবস্থান ও পশ্চিমা বিশ্বের চিত্র
তালিকায় বাংলাদেশের পরেই অবস্থান করছে মরক্কো (৯৬.২%), লিবিয়া (৯৫.২%) এবং তুরস্কের (৯১.৮%) মতো মুসলিম প্রধান দেশগুলো। অন্যদিকে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্রে পরকালে বিশ্বাসের হার ৬৮.২ শতাংশ হলেও ইউরোপের দেশগুলোতে এই হার অনেক কম। পরিসংখ্যান অনুযায়ী যুক্তরাজ্যে ৪১.৭ শতাংশ এবং নরওয়েতে মাত্র ৩৯.৩ শতাংশ মানুষ পরকালে বিশ্বাস করেন। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পশ্চিমা বিশ্বে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্কতা ও সেকুলার জীবনযাপনের প্রভাবে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের হার ক্রমশ কমছে।
পূর্ব এশিয়ার তলানি ও সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ
সবচেয়ে অবাক করা তথ্য পাওয়া গেছে পূর্ব এশিয়া থেকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরকালের বিশ্বাসে বিশ্বের সবচেয়ে নিচে অবস্থান করছে চীন। দেশটির মাত্র ১১.৫ শতাংশ মানুষ মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে বিশ্বাস করেন। এছাড়া জাপানে এই হার ৩২.২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কমিউনিস্ট আদর্শ এবং নাস্তিক্যবাদী রাষ্ট্রীয় শিক্ষার প্রভাব এই অঞ্চলে পরলৌকিক বিশ্বাসের অভাবের একটি বড় কারণ।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যে দেশগুলোতে মানুষের জীবনযাত্রা অনেক বেশি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী, সেখানে পরকালের বিশ্বাস অনেক শক্তিশালী। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের বর্তমান জীবন যখন দারিদ্র্য বা অনিশ্চয়তায় ঘেরা থাকে, তখন তারা অনাগত জীবনে শান্তি ও ন্যায়বিচারের আশা বেশি করে। বাংলাদেশের মানুষের এই সুউচ্চ পরিসংখ্যান মূলত তাদের গভীর আধ্যাত্মিকতা এবং ধর্মীয় সংস্কৃতিরই এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
